Bhutan (Thimphu - Punakha - Paro)

মাচু পিঁচু – হারিয়ে যাওয়া ইনকা শহরে

“In the variety of its charms and the power of its spell, I know of no other place in the world which can compare with it.”
~Hiram Bingham, ‘discoverer’ of Machu Picchu

ফটোঃ মাচু পিঁচু

মাচু পিঁচু ভ্রমনের ইচ্ছা আমার বহুদিনের। কলেজে পড়ার সময় ডিসকভারি চ্যানেলে ইনকা সভ্যতার উপর প্রামাণ্যচিত্র দেখে প্রথম রোমাঞ্ছিত হয়েছিলাম, এক মোহনীয় আকর্ষণে জড়িয়ে পড়েছিলাম পেরুর আন্দেজ পর্বতের কোলে অবস্থিত ছোট্ট এই শহরটির প্রতি, প্রচণ্ড ইচ্ছা জেগেছিল একবার নিজ চোখে মাচু পিঁচু কে কাছে থেকে দেখার। অবশেষে, সেই স্বপ্ন পূরণ হল ২০১৫ এর ১৯ এ মে। একটি স্বপ্ন , এক যুগ প্রতীক্ষা! কাজের ফাঁকে ফাঁকে দীর্ঘ দুই মাস ধরে ভ্রমণ পরিকল্পনা করার পর অবশেষে এলো সেই বহুল প্রতীক্ষিত দিন। আড়াই সপ্তাহর ছুটি নিয়ে কানাডার এডমন্টন শহর থেকে উড়াল দিলাম পেরুর উদ্দেশ্যে। আমার সাথে ভ্রমণসঙ্গী ছিল অস্ট্রেলিয়ার বন্ধু হিপস্টার হ্যারল্ড, কানাডার বন্ধু লেডী কিলার এইব এবং সুন্দরী মডেল তারিন। এই আড়াই সপ্তাহর ছুটিতে পেরুর লিমা, কুজকো, মাচু পিঁচু , টিটিকাকা হ্রদ এবং আমাজন জঙ্গল ঘুরে দেখার ইচ্ছা। আজকের লেখাটা শুধু মাচু পিঁচু কে নিয়ে।

ফটোঃ পাসপোর্ট ,মানচিত্র, ভ্রমনবই আর পেরুভিয়ান সোল নিয়ে যাত্রা হল শুরু

লিমা

বার ঘণ্টার দীর্ঘ বিমানযাত্রা শেষে রাত বারটা নাগাত পেরুর রাজধানী লিমা পৌঁছালাম। ক্লান্ত শরীরে ঘুম ঘুম চোখে গভীর রাতে হোটেলে পৌঁছে ফ্রেশ হয়েই ঘুমিয়ে পড়লাম। এক ঘুমেই রাত কাবার! পরদিন সকালে জম্পেশ নাস্তা করে  আমার পেরুভিয়ান বন্ধু মিগুএল এর সাথে দেখা করতে বেরিয়ে পরলাম। মিগুএল এর সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয় ২০১০  সালে, ইন্টারনেটে স্কাইপের একটা ইংলিশ অনুশীলন গ্রুপের মাধ্যমে। সেখান থেকে ফেইসবুকে বন্ধু এবং তারপর পেরুতে সরাসরি দেখা। ২০১০ সালে কি আমি ভাবতে পেরেছিলাম এই মিগুএল এর সাথে একদিন বাস্তবে সরাসরি দেখা হবে ওর নিজের দেশে?! সত্যই  বিশ্বায়নের যুগে পৃথিবী অনেক ছোট হয়ে আসছে।

মিগুএল এবং তার গ্যাঙ   এর সাথে সারাদিন  চুটিয়ে আড্ডা দিয়ে আর ঘুরাঘুরি করে বেশ সময় কেটে গেল। ঘুরে ঘুরে দেখলাম লিমার ঐতিহাসিক  ঔপনিবেশিক প্রাসাদ এবং জাদুঘরগুলো। রাতে সবাইকে নিয়ে পেরুভিয়ান স্টাইলে লামার মাংস এবং চিচা নামক পানীয় দিয়ে ডিনার করলাম। খেতে ভালই, স্বাদ অনেকটাই গরুর মাংস এর মত কিন্তু অতটা নরম না বরং একটু রাবারের মত, ছিঁড়তে বেগ পেতে হয় ।

ফটোঃ মিগুএল এবং তার গ্যাঙের সাথে আড্ডা (মিগুএল বা থেকে দ্বিতীয়)
ফটোঃ লিমার ঐতিহাসিক সান ফ্রানসিসকো উপসনালয়


ফটোঃ লিমার ঔপনিবেশিক প্রাসাদ

গন্তব্য মাচু পিঁচু


লিমার পার্ট চুকিয়ে পরদিন ভোর ছয়টার ফ্লাইটে পেরুর কুজকো শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম, গন্তব্য মাচু পিঁচু। কুজকো পৌঁছে দরদাম করে ট্যাক্সি ভাড়া করলাম ৮০ সোল দিয়ে, যেতে হবে ওলানটাম্ব্য ট্রেন স্টেশন। ট্যাক্সি করে যেতে যেতে চোখে পড়লো পেরুর অপরূপ মায়াবী সৌন্দর্য। বাচ্চা ছেলে মেয়ে দলবেঁধে স্কুলে যাচ্ছে , পাহাড়ের ঢালে রাখাল গরুর পাল নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, স্রোতস্বিনী পাহাড়ি নদী, সে এক নয়ানাভিরাম দৃশ্য! ট্যাক্সি ড্রাইভারের সাথে ভাঙা ভাঙা স্প্যানিশে আলাপ জমানোর চেষ্টা করলাম, তাকে জানালাম সুদূর বাংলাদেশের সবুজ শস্য শ্যামলা উর্বর ভূমির  কথা,  পেরু ভ্রমণ নিয়ে আমার স্বপ্নর কথা। প্রায় এক ঘণ্টার  ট্যাক্সি ভ্রমণ শেষে ওলানটাম্ব্য ট্রেন স্টেশন পৌছালাম দশটার দিকে।
স্টেশনের কাছেই এক রেস্তরাঁয় সকালের চা নাস্তার পর্বটা সেরে নিলাম। সাড়ে দশটার সময় ট্রেন ছাড়ল, পেরু রেলের বিলাসবহুল ভিস্তাডোম ট্রেনে করে চললাম আগুয়াস ক্যালিয়ান্তেসের উদ্দেশ্যে। আগুয়াস ক্যালিয়ান্তেস হচ্ছে মাচু পিঁচু কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি ছোট্ট ট্যুরিস্ট শহর। আগুয়াস ক্যালিয়ান্তেস থেকে ট্রেকিং করে অথবা বাসে করে সরাসরি মাচু পিঁচু যাওয়া যায় । আমাদের আগুয়াস ক্যালিয়ান্তেস শহরে দুই রাত যাপন করার ইচ্ছা।
ট্রেন ভ্রমণটা  ছিল এক কথায় অসাধারন। ট্রেনটা  অনেকটা কাঁচের তৈরি ঘরের মত, চারিদিকে বিশাল কাঁচের জানালা, ছাদও কাঁচের তৈরি, জানালা  দিয়ে বাইরের সব কিছু পরিস্কার দেখা যায়। পাহাড়ি ঝর্না, নদী ,ব্রিজ, ইনাকা দের পায়ে চলা রাস্তা, গ্রীষ্মমন্ডলীয় জঙ্গল, আন্দিজ পর্বতমালা; সে এক অসাধারন স্বর্গীয় অনুভূতি! 

ফটোঃ ভিস্তাডোম ট্রেনের ভিতর
ট্রেনের ভিতর পেরুভিয়ান স্টাইলে আরেকদফা নাস্তাপানি সেরে নিলাম (ট্রেনের  টিকেটের সাথে ফ্রি ছিল), নাস্তা খেতে খেতে আড্ডা জমালাম পাশের ব্রাজিলিয়ান দস্পতির সাথে। জানলাম তারা বিয়ে করেছেন এক মাস হল,  মধুচন্দ্রিমায় যাচ্ছেন মাচু পিঁচু,  আমাদের গ্যাঙকে ব্রাজিল ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানালেন, আমরাও নবদম্পতিকে বাংলাদেশের সুন্দরবন এবং কানাডার রকি পর্বতমালা  ঘুরে যাওয়ার নিমন্ত্রণ জানালাম। ব্রাজিলের জাদুকরী ফুটবল আর কানাডার আইস হকি নিয়ে আড্ডা দিতে দিতে দুপুর দেড়টার দিকে আগুয়াস ক্যালিয়ান্তেস স্টেশনে পৌঁছে গেলাম । 


হোটেল আগেই বুক দেয়া ছিল, হোটেলের ম্যানেজার আমাদের ট্রেন  স্টেশনে  রিসিভ করলেন। দায়সারা গোছের ছোটখাটো একটা হোটেল, চেকইন করে হাল্কা ফ্রেশ হয়েই মাচু পিঁচুর টিকিট কাটার জন্য বেরিয়ে পরলাম। টিকিট কেটে বাসস্টেশনে চলে আসলাম, বাসে করে মাচু পিঁচু যাব।  মাত্র তিন কিলমিটার দূরত্ব,  কিন্তু বাসের টিকেটের আকাশছোঁয়া দাম শুনে আমাদের সবার আক্কেলগুড়ুম,  এযে  রীতিমতো ডাকাতি । একবার মনে করলাম  ট্রেকিং করে যাবো, কিন্তু সময়ের স্বল্পতার কথা চিন্তা করে ব্যয়বহুল বাসে করেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম শেষমেশ। বাসে করে পাহাড়ি রাস্তা বেয়ে মাচু পিঁচু পৌছাতে মিনিট পনেরর মতো লাগে। বাস একবারে মাচু পিঁচুর গেটে নামিয়ে দিলো। নামতেই এক ঝাঁক গাইড ধরে বসলো তাদেরকে ভাড়া করার জন্য । যেহেতু মাচু পিঁচু নিয়ে অনেক পড়াশুনা করা ছিলো তাই কিছু খরচ বাঁচানোর জন্য গাইড আর নিলাম না ।

মাচু পিঁচু


প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই ইনকাদের বানানো সিঁড়ি চোখে পড়ল, উপরে উঠতে শুরু করলাম , প্রায় ১০ মিনিট উঠার পর মাচু পিঁচুর ভিউ নজরে আসলো । এ এক অবিশ্বাস্য সুন্দর দৃশ্য !! নিজের চোখকে বিশ্বাস হচ্ছিলো না যে আমি শেষ পর্যন্ত মাচু পিঁচুকে এতো কাছ থেকে দেখছি। অপূর্ব অসাধারণ মায়াবী সেই দৃশ্য । 

ফটোঃ মাচু পিঁচু দেখে উচ্ছ্বসিত আমি :)

১৪০০-১৫৩০  খ্রিষ্টাব্দর ভিতর পেরুর  আন্দিজ পর্বতের মাঝে গড়ে উঠেছিল কলম্বাসপূর্ব আমেরিকার সবচেয়ে বড় সম্রাজ্য - পরাক্রমশালী ইনকা সম্রাজ্য । দক্ষিন আমেরিকার চিলি থেকে ইকুইডোর পর্যন্ত ২৫০০ মাইল রাজ্য সীমানা,  ২০ টি ভিন্ন ভাষাভাষী ১২ মিলিয়ন প্রজা নিয়ে ছিল একসময়ের সুবিশাল ইনকা সম্রাজ্য, পেরুর কুজকো ছিল যার রাজধানী ।

বিশ্বের বিস্ময় ইনকা সভ্যতার পাহাড়ি শহর মাচু পিঁচু ছিল ইনকা রাজাদের অবকাশযাপন কেন্দ্র। সাগর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮০০০ ফিট উপরে পেরুর আন্দিজ পর্বতমালার উপর অবস্থিত এই ইনকা শহরটি নির্মিত হয় ১৪৫০ সালে, সম্ভবত ইনকা সম্রাট পাচাকুটির নির্দেশে, কিন্তু এর মাত্র একশ বছর পরেই স্পানিশদের আগ্রাসনের সময় শহরটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়, কেন তা আমাদের জানা নেই, হয়ত স্প্যানিশদের বয়ে আনা কোন রোগের মহামারী আকারে প্রকোপের ফলে।অবশেষে ১৫৩২ সালে স্পানিশ কন্সকুইতেদরদের হাতে ইনকা সম্রাজ্যর পতন হয়। স্প্যানিশরা অনেক বড় বড় ইনকা শহর, মন্দির এবং অন্যান্য স্থাপত্য দখলে নিলেও মাচু পিঁচু শহরটাকে কখনও খুঁজে পায় নি।
পড়ন্ত বিকেল আর কর্মব্যাস্ত দিন হওয়ার কারনে টুরিস্টের সংখ্যা অনেক কম ছিলো। ধুপধাপ বেশ কিছু ছবি তুলে ফেললাম আমরা। ইনকাদের বানানো সিঁড়ি দিয়ে  কিছুদূর হেটে উপরে উঠতেই চোখে পড়ল লামা ! ল্যাতিন আমেরিকার উট জাতীয় এই প্রাণী মনে হয় সারা বিশ্বের কাছে অতি পরিচিত তার মাংস, পশম, পাহাড়ে চড়ার নেশা এবং ইনকা সভ্যতার সাথে সংশ্লিষ্টতার জন্য ( আলপাকা এবং ভ্যিকুনা নামের আরও দুই প্রজাতি উট আছে সেখানে, এর মধ্যে আলপাকার পশম সবচেয়ে উৎকৃষ্ট এবং দামী)।

ফটোঃ লামা

সামনে সাইন দেখে বুঝলাম আরেকটু সামনে গেলেই ইনকাদের নিজ হাতে তৈরি ব্রিজ দেখা যাবে। প্রায় দুই কিলোমিটার হাটার পর অবশেষে সেই ব্রিজের দেখা মিলল, কিন্তু টুরিস্টদের ব্রিজের কাছে যাওয়া নিষেধ। কথিত আছে যে কয়েক বছর আগে নাকি একজন ব্রিজ থেকে পড়ে মারা গিয়েছিলো মতান্তরে, আত্মহত্যা করেছিলো তাই এখন আর কাছাকাছি যেতে দেয় না। শুধু কয়েকটা ছবি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হল
ফটোঃ ইনকা ব্রিজ
সন্ধ্যা হয়ে আসছিলো আর গেট বন্ধ হয়ে যাবে তাই ফেরার পথ ধরলাম। ফেরার পথে আবারো একপাল লামার দেখা । ধবধবে সাদা বর্ণের একজোড়া লামাকে দেখে আদর করতে ইচ্ছা করলো । কিছুক্ষণ মাথা পীঠে হাত বুলায়ে আদর করছিলাম, হঠাৎ খেয়াল করলাম পালের  ইয়া বড় খয়েরি রঙের এক লামা আমার দিকে কটমট করে তাকিয়ে আছে। আমি একটু এগিয়ে যেতেই আমাকে তাড়া করলো, পই পই করে দৌড়ে পালালাম। পরে ধারণা করলাম যে সাদা লামাগুলো মনে হয় বড় লামাটার স্ত্রী  অথবা গার্লফ্রেন্ড টাইপ কিছু হবে, তাই রাগ করেছেন আমার আদর করা দেখে।  

ফটোঃ লামাকে আদর


ফটোঃ বেজার লামা

মাচু পিঁচু পর্বতে হাইক

পরদিন সকালে আবার  মাচু পিঁচুর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। এবার টার্গেট হাইক করে উঠবো  মাচু পিঁচু মাউন্টেনে। ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি করে জানতে পেরেছি সেখান থেকে  মাচু পিঁচুর অসাধারণ “বার্ডস আই ভিউ” দেখা যায়। ৬০০ বছর আগে ইনকাদের বানানো পাথুরে সিঁড়ি ভেঙ্গে উঠতে হয়  মাচু পিঁচু মাউন্টেনে। ৩০৬১ মিটার উপরে এটার চূড়া অবস্থিত। প্রচণ্ড গরমে আধাসিদ্ধ হয়ে প্রায় আড়াই ঘন্টা কষ্টকর হাইক করার পর অবশেষে চূড়ায় পৌছালাম। পথে কানাডার এডমন্টন থেকে আসা আরো কিছু টুরিস্টের সাথে পরিচয় হলো। চূড়া থেকে পুরো  মাচু পিঁচু ভ্যালী দৃষ্টি গোচর হল, মায়াবী মাচু পিঁচু । বেশ কিছু ছবি নিলাম সামিট থেকে।

ফটোঃ ইনকাদের বানানো সিঁড়ি বেয়ে উঠছি


ফটোঃ চূড়া বিজয়
ফটোঃ নিচে মাচু পিঁচুর অসাধারণ “বার্ডস আই ভিউ”


ফটোঃ নামার পথে

কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর নেমে এলাম চূড়া থেকে। তারপর ঘুরে ঘুরে দেখলাম সুবিশাল মাচু পিঁচুর বিভিন্ন পুরাকীর্তি । দেখলাম ইনকাদের সূর্য মন্দির, গুদাম ঘর , বাসস্থান , পানি নিষ্কাশন আর জুম চাষের চিত্র। কল্পনার জগতে দেখে নিলাম পাচশত বছর আগে কিভাবে ইনকারা এখানে জীবন যাপন করত ।
ফটোঃ ইনকাদের গুদামঘর
ফটোঃ সূর্য মন্দির


ফটোঃ পাহাড়ের ঢালে ইনকাদের জুম চাষ

ফটোঃ ইনকাদের ঘর বসতি

ইনকারা ছিল ঝানু স্থাপত্যবিদ। আন্দিজের ভূমিকম্পপ্রবন এলাকায় পাহাড়ের উপর এমন সুবিশাল একটি শহর নির্মাণ করা সত্যিই এক বিস্ময়! ইনকারা তাদের প্রাসাদের দরজা জানালা আয়তক্ষেত্র আকারের বদলে ট্র্যাপিজয়েড আকারে নির্মাণ করত। কারন ট্র্যাপিজয়েড হচ্ছে অনেক স্থিতিশীল একটা আকার যা ভূমিকম্পের সময় প্রচণ্ড স্থিতিশীলতা প্রদান করে ।


ফটোঃ ট্র্যাপিজয়েড শেপের জানালা


সারাদিন ঘুরাঘুরি করে, অসংখ্য ছবি তুলে আমারা সবাই বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম, তাছাড়া সারাদিন তেমন কিছু খাওয়া হয় নি (ভিতরে খাবার ব্যবস্থা নেই আর খাবার নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ )। পড়ন্ত বিকেলে ফেরার পথ ধরলাম মায়বী এই শহর থেকে। ফেরার পথে পার্সপোর্টে  মাচু পিঁচুর সিল লাগিয়ে নিলাম গেট থেকে,  স্মৃতি হয়ে থাকবে। হয়তোবা আবারো কোন একদিন ফিরে আসব ইনকাদের মায়াবী এই শহরে ।


পরিশিষ্ট

আবিস্কার

যদিও স্থানীয়রা অনেকেই এই ইনকা নগরীর কথা জানত, এমনকি হয়ত মাঝে মাঝেই তীর্থযাত্রার মত সেখানে গমনও করত, কিন্তু ১৯১১ সালের পূর্বে বাইরের পৃথিবীর লোকজনের কাছে মাচু পিঁচু ছিল সম্পূর্ণ অজানা এক শহর। অবশেষে ১৯১১ সালে আমেরিকার ইয়েল বিশ্ব-বিদ্যালয়ের তরুণ প্রত্নতত্ত্ববিৎ হিরাম বিংহাম  ইনকাদের হারিয়ে যাওয়া এই শহর কে বহিঃবিশ্বের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।

হিরাম আসলে খুঁজছিলেন ভিলকাবাম্বা নামে ইনকাদের পাহাড়ি রাজধানী –(স্প্যানিশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইনকাদের সর্বশেষ বিদ্রোহী ঘাঁটি) , সেটি তিনি পেয়েও যান, কিন্তু তার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের অভাবে সেটির তাৎপর্য বুঝতে পারেন নি, বরং অভিযান চালাতে চালাতে মাচু পিঁচু এসে উপস্থিত হবার পর ভাবেন এটিই ভিলকাবাম্বা! পরবর্তীতে অবশ্য তার ভুল ধারণার অবসান ঘটে।

কিভাবে যাবেন

প্রথমে বিমান পথে পেরুর কুজকো শহরে (একসময়ের ইনকা রাজধানী) যেতে হবে। কুজকো থেকে পেরু রেলের সরাসরি ট্রেন আছে আগুয়াস ক্যালিয়ান্তেসের। আগুয়াস ক্যালিয়ান্তেস হচ্ছে মাচু পিঁচু কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি ছোট্ট ট্যুরিস্ট শহর। আগুয়াস ক্যালিয়ান্তেস থেকে ট্রেকিং করে অথবা বাসে করে সরাসরি মাচু পিঁচু যাওয়া যাবে। আর বিশ্ব বিখ্যাত ইনকা ট্রেইলে ট্রেকিং করে যেতে চাইলে প্রথমে কুজকো থেকে ট্যাক্সি অথবা বাসে করে Ollyantambo শহরে যেতে হবে। সেখান থেকে গাইড নিয়ে ট্রেকিং করা যাবে। যেহেতু এটা অনেক জনপ্রিয় একটা ট্রেকিং এবং সীমিত সংখ্যক পর্যটক যেতে পারে তাই আগে থেকে বুকিং দিয়ে যাওয়া ভালো এবং স্বাস্থ্য ভালো থাকা খুবি জরুরি।


ইনকাদের নিয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন:

  1. The Last Days of the Incas by Kim MacQuarrie
  2. The Genius of the Inca by National Geographic (April 2011 issue)


লেখাঃ জাবেদুল আকবর (এডমন্টন, কানাডা )  
কৃতজ্ঞতাঃ নাফিসা এবং রিদওয়ান ভাই

Comments

  1. অসাধারন ভাই :) খুব ভালো লাগলো।

    ReplyDelete

Post a Comment