Bhutan (Thimphu - Punakha - Paro)

টিটিকাকা হ্রদে


ইনকা সভ্যতার তীর্থভূমি মাচুপিচু ভ্রমন শেষে পেরুর বিখ্যাত কুজকো শহরে এক রাত ঘুরাঘুরি করে কাটালাম। পরদিন কাকডাকা ভোঁরে বাসে করে রওনা দিলাম টিটিকাকা হ্রদের শহর পুনোর উদ্দেশ্যে। আট ঘণ্টার লম্বা বাস ভ্রমণ। পথে যেতে যেতে পেরুর অপূর্ব আন্দিজ পর্বতমালা নজরে আসল। চোখজুড়ে উপভোগ করলাম তুষারঢাকা আন্দিজ। পথে বিরতিতে বেশ কয়েকটা পুরনো স্প্যানিশ ক্যাথোলিক গির্জা এবং ইনকা মন্দির ঘুরে ঘুরে দেখা হল।


তুষারঢাকা আন্দিজ


পুনো শহর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৮০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত হাবার কারনে এখানে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকে। অনেকেই এই কারনে মাথা ঝিমধরা উচ্চতা রোগে ভোগে। উচ্চতার সাথে খাপ খাইয়ে নেবার জন্য আমরা বার বার কোকো চা পান করছিলাম। এই চা মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ বিদ্ধিতে সহায়তা করে।

পথ চলতে চলতে সন্ধ্যায় পুনো শহরের পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথের বাঁকে প্রথম বারের মত দৃষ্টিসীমায় আবির্ভাব ঘটল টিটিকাকা হ্রদের। দক্ষিন আমেরিকার দুইটি দেশ পেরু ও বলিভিয়ার সীমান্তরেখার মাঝখানে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় বার হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত বিশ্বের উচ্চতম বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহৃত এই হ্রদ দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম হ্রদতো বটেই সেই সাথে আমাদের গ্রহের ২১তম বৃহত্তম। বিশাল তার ব্যপ্তি, যে এবড়ো-থেবড়ো পাহাড় ঘুরে আমরা সবেগে নিচের দিকে চলেছি তার পাদদেশ থেকে শুরু করে দূরের আন্দেজের সুমহান তুষার ছাওয়া আকাশছোঁয়া পর্বতমালার প্রান্তসীমা পর্যন্ত তার অস্তিত্ব। ইনকা সভ্যতার প্রবাদ অনুযায়ী‚ টিটিকাকা হ্রদ থেকেই তাদের সভ্যতার জন্ম। তাদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র এর জল। ইনকাদের আগে টিটিকাকার তীরে বসতি ছিল পুরাকা‚ তিহুয়ানাকো জনজাতির।


বাসটান্ডে আমাদের গাইড টেম্পো নিয়ে অপেক্ষা করছিল । হোটেলে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবার খেয়ে নিলাম। পরদিন সকালে টিটিকাকা হ্রদে নৌভ্রমণ । ভোরে টেম্পো করে লঞ্চঘাটে। প্রথমে যাবো ভাসমান উরস দ্বীপে তারপর তাকুইলা দ্বীপে।

টিটিকাকা হ্রদে আমাদের গ্যাং (তারিন, হ্যাঁরল্ড , আমি , এইব )  
তোতোরা নামের নলখাগড়া, যাকে বিশেষ পদ্ধতিতে বেশ কয় স্তরে  বেঁধে একেবারে শতভাগ জলনিরোধক প্লাটফর্ম তৈরি করা হয়, এরপরে এমন অসংখ্য ছোট ছোট খণ্ড একত্রে বেঁধে চলনসই আকারের ভাসমান দ্বীপ নির্মিত হয়। এরকম অনেক দ্বীপ নিয়েই উরস দ্বীপপুঞ্জ।


এমনই এক গ্রামে ভিড়ল আমাদের ইঞ্জিনের নৌকা, খুব সমাদর করে সবার সাথে হাত মিলিয়ে  আমাদের অভ্যর্থনা জানালেন গাঁয়ের মোড়ল। এক কুঁড়ের সামনে গোল করে বসতে বললেন।  তার নিজের ভাষায় জানালেন তাদের ইতিহাস, প্রাচীন বিশ্বাস, লোকজ সংস্কৃতি, খাদ্যাভাস, যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে, গাইড সেখান থেকে ইংরেজিতে বলে গেল আমাদের জন্য।




কথার মাঝে আমাদের প্রত্যেকের হাতে একটি করে তোতোরা দিয়ে গোঁড়ার দিকটা অনেকটা ইক্ষুর মত ছিলে খেতে বললেন, খানিকটা পানসে হলেও খাওয়া চলে! আবার এই নলখাগড়া দিয়ে কপালে ব্যান্ডেজের মত জলপট্টি দেয় স্থানীয়রা জ্বর আসলে, মানে এর ভেষজ গুণও বর্তমান!

গ্রামের মাঝে ফাঁকা জায়গা, সেখানে হ্রদের টলটলে জল দেখা যায়, এক ধরনের জাল দিয়ে ঘেরা। জিজ্ঞেস করতেই জানা গেল এই তাদের জীবন্ত খাদ্য ভাণ্ডার, মাছের আড়ৎ! মানে মাছ ধরে জিইয়ে রাখা হয়, পরে ইচ্ছে মত রান্না চলে। ভ্রমণসঙ্গী হ্যারি একফাকে দ্বীপের তাবত বাচ্চা কাচ্চার দলকে সাথে নিয়ে বাঁশি বাজতে বসে গেল। আমরা হ্যারিকে উরস দ্বীপের বাশিওয়ালা খেতাব দিলাম।




বিখ্যাত নল খাগড়ার নৌকার দেখা মিলল অবশেষে, জানা যায় অন্তত তিন হাজার বছর ধরেই এমন নৌকার ব্যবস্থা চালু ছিল এই অঞ্চলে, প্রায় একই ধরনের নৌকার চল ছিল মিশরের নীলনদে, সেগুলো ছিল প্যাপিরাসের তৈরি। আমাদের মানব সভ্যতা বুঝি এভাবেই হাজারো মাইলের বাবধানেও এক্সুরে গাথা। খানিক পরেই গাইড প্রস্তাব দিল আমরা চাইলে সামান্য অর্থের বিনিময়ে এমন নৌকায় চেপে মিনিট চল্লিশেক ঘোরাঘুরি করে অন্য দ্বীপে যেতে পারি!







আমরা সবাই নৌকা ভাড়া করে ঘুরে আসলাম এক পাক। পর্যটন কে কেন্দ্র করেই এই ভাসমান দ্বীপ গুলো টিকে আছে। নৌকা ভ্রমণ শেষে এসে দেখলাম গ্রামের মেয়েরা হাতে তৈরি চমৎকার সব পণ্য সাজিয়ে মেলা বসিয়েছেন ।




দেখতে দেখতে বিদায়ের সময় হয়ে এল, আমাদের অবাক করে তিন জন রেড ইন্ডিয়ান রমণী সুরেলা গলায় বিদায় সঙ্গীত শুরু করলেন নাচের তালে তালে।





এরপর গন্তব্য তাকুইলা দ্বীপে.  আরও এক ঘণ্টা লঞ্চ ভ্রমণ শেষে আমারা টিটিকাকা লেকের অন্যতম বড় দ্বীপ তাকুইলা দ্বীপে পোঁছালাম। তাকুইলা দ্বীপে হস্ত শিল্পের জন্য পৃথিবী বিখ্যাত (ইউনেস্কো ) . এখানকার ছেলেরা সবাই হতে বনা রং বে রং এর টুপি পরে . Tupir rong ebong bunon dekhe onek kisu bola jay. Jmn k obibhito, k neta, k bacca. Khabar o onek susadu. E onek sundo view dekha jay leker pasher sada pahar er..
Lunche e bose pahar er upor theke opurup dissho dekhe mon jurie gelo.





Launcher chade bose adda die somoy kete gelo valoi.






Comments